
জাতীয় সংসদে বর্তমান সংসদ সদস্যদের বিশাল অঙ্কের ব্যাংক ঋণ এবং আর্থিক খাতের বর্তমান চিত্র নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান সংসদের সদস্যদের ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যার একটি বড় অংশই ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের এবং তারা মূলত বড় মাপের ঋণখেলাপি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
ঋণের পাহাড় ও পুনঃতফসিলের খেলা
নাহিদ ইসলাম ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তথ্য উল্লেখ করে বলেন যে, বর্তমান সরকারি দলের প্রার্থীদের মধ্যে ৫৯.৪১ শতাংশই বিভিন্নভাবে ঋণগ্রস্ত। তিনি বলেন:
‘বর্তমান সরকারি দলের যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের ৫৯.৪১ শতাংশ ঋণগ্রস্ত। সংসদ সদস্যদের ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। নির্বাচনের আগে তারা কিছু টাকা জমা দিয়ে এগুলো পুনঃতফসিল করে নিয়েছেন। আর বর্তমান গভর্নর এই পুনঃতফসিল কাজেই এক্সপার্ট। সেজন্যই তাকে এই পদে বসানো হয়েছে।’
গভর্নর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ অভিযোগ করেন, বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে। তাঁর মতে, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর করা হয়েছে শুধুমাত্র এই হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ তৈরি করে দিতে। তিনি মন্তব্য করেন যে, এর ফলে আর্থিক খাতের ওপর সাধারণ মানুষের ন্যূনতম আস্থাও অবশিষ্ট নেই।
খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান
নির্বাচনী আইনের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অযোগ্য হওয়ার কথা থাকলেও বিশেষ কৌশলে তারা সংসদে এসেছেন। তিনি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ঋণের পরিমাণ উল্লেখ করে বলেন, ‘নির্বাচনের বিধান অনুযায়ী ঋণ খেলাপি কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না। কিন্তু আমরা দেখলাম নির্বাচনের আগে কিছু টাকা পরিশোধ করে ঋণ পুনঃতফসিল করে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে এসে আসলেন। আমি কিছু সংখ্যা বলছি। ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, ৭৬৫ কোটি টাকা, ৬৭৯ কোটি টাকা, ৬২১ কোটি টাকা, ২০১ কোটি টাকা, ১৮২ কোটি টাকা, ৯৭ কোটি টাকা। এগুলো আমাদের সংসদ সদস্যদের ঋণ।’
বক্তব্যের শেষে তিনি দাবি করেন, নিয়ম রক্ষার্থে সামান্য অর্থ জমা দিয়ে বড় অঙ্কের ঋণ পুনঃতফসিল করার এই সংস্কৃতি দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমান সংসদের এই আর্থিক চিত্র দেশের সুশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মনে করেন।