
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের নেপথ্যের চাঁদাবাজি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করার জেরে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন স্টার নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) আম্বর শাহ মসজিদ মার্কেটে তাকে আটকে রেখে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক।
সংবাদ সংগ্রহকালে হামলা ও অবরুদ্ধ দশা
জিডি সূত্রে জানা গেছে, আম্বর শাহ মসজিদ মার্কেটের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তথ্য ও ভিডিও সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন হাবিব। একপর্যায়ে মসজিদের ক্যাশিয়ার নাসির উদ্দিনের বক্তব্য নিতে তার কক্ষে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা দেওয়ার হুমকি দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সেখানে প্রবেশ করে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে। তারা হাবিব ও ভিডিও জার্নালিস্ট আনোয়ার হোসেনকে গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তাদের একটি কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি শফিক শাহিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তী সময়ে সহকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা পৌঁছে তাদের উদ্ধার করেন।
হামলায় অভিযুক্ত যারা
হাবিবের অভিযোগ অনুযায়ী, মসজিদ কমিটির সম্পাদক বেলায়েত হোসেনের উস্কানিতে এই হামলা চালানো হয়। জিডিতে নাম উল্লেখ করা অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কিচেন মার্কেটের ক্যাশিয়ার এনায়েত, জহিরুল ইসলাম (প্রাইম হার্ডওয়্যার), দেলোয়ার হোসেন (নোয়াখালী জেনারেল স্টোর), বেলায়েত হোসেন বাবু এবং চাল ব্যবসায়ী জগলুলসহ অজ্ঞাত আরও ২০ জন।
হাবিবুল ইসলাম হাবিব জানান, কারওয়ান বাজারের ‘২৪ ঘণ্টায় কোটি টাকার চাঁদাবাজি’ নিয়ে তার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারের পর থেকেই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল এবং তাকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিল।
সাংবাদিক সমাজের তীব্র নিন্দা
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে সরব হয়েছে যশোর সাংবাদিক ফোরাম। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংগঠনটির আহ্বায়ক মাহমুদ সোহেল ও সদস্য সচিব নাজিম উদ দৌলা সাদি এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, “সংবাদ প্রকাশের জেরে একজন সাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য অশনিসংকেত। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
সংগঠনটি অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সাংবাদিকের ওপর এমন পরিকল্পিত আক্রমণকে মুক্ত সাংবাদিকতার পথে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।