
দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে মামলার পাহাড়—২০২৫ সালের শেষ দিনে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০ লাখ। এই বিশাল জট দ্রুত কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৫তম কার্যদিবসে ময়মনসিংহ-৬ আসনের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য জামায়াতের মো. কামরুল হাসানের টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘মামলার জট কমাতে ইতোমধ্যে ৮৭১টি আদালত সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ২৩২টি বিচারকের পদ তৈরি করা হয়েছে। আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৭০৮ জন বিচার বিভাগীয় কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে এবং আরও ৫৫৩ জন নিয়োগাধীন রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘নারী ও শিশু নির্যাতনসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সলিসিটরকে সভাপতি করে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস শক্তিশালী করা হয়েছে, অভিজ্ঞ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তার জন্য ১৬৬৯৯ হট-লাইন চালু করা হয়েছে। এছাড়া অধস্তন ও উচ্চ আদালতের কজলিস্ট শতভাগ অনলাইন করা হয়েছে, ফলে এখন ঘরে বসেই মামলার তারিখ জানা যাচ্ছে।’
সরকার দ্রুত, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দ্রুত, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী বিচার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে আদালতে মামলার চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং জনগণ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে। সিভিল প্রসিডিউর কোড ও ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোডে সংশোধনের মাধ্যমে ডিজিটাল সমন, অনলাইন সাক্ষ্য গ্রহণ, এবং মামলা নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সহজীকরণসহ একাধিক যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হয়েছে।’