
সরকার একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ই-হেলথ কার্ড চালু, স্বাস্থ্যবিমা সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বক্তব্যে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শহর ও গ্রামে সমানভাবে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী (হেলথ কেয়ারার) নিয়োগ দেওয়া হবে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালু, দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের চিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা চালু, স্বাস্থ্যবিমা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় জোর দেওয়া হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির ভিত্তিতে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
এ সময় ওয়ান হেলথ বা ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানের সমন্বয়ে গবেষণা এবং টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং (এমএল), ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর)-এর মতো প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে পারে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই।