
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কারণে দেশটির ওপর যে বোঝা তৈরি হয়েছে তা “অসহনীয়”, উল্লেখ করে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
রোববার (৯ মার্চ) স্থানীয় সময় লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে অনুষ্ঠিত ২৬তম কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই বার্তা দেন। বিষয়টি সোমবার (৯ মার্চ) লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়। এই সম্মেলনে কমনওয়েলথভুক্ত ৫৬টি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
অধিবেশনে খলিলুর রহমান তুলে ধরেন যে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। তিনি বলেন, “এখনও নতুন করে রোহিঙ্গা আসছে। তাদের জন্য মানবিক সহায়তা ক্রমান্বয়ে কমে আসায় আমি উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকলে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানান।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সম্মেলনে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকের লক্ষ্য ও আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর স্থাপিত নিয়ম ও রীতিনীতি লঙ্ঘনের কারণে বিশ্ব যে কঠিন সময় পার করছে, তাও আলোচিত হয়।
খলিলুর রহমান বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং কমনওয়েলথে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেন। তিনি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পাঠানো উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষক দল এবং তাদের প্রতিবেদনের প্রশংসা করে কমনওয়েলথ সচিবালয়কে ধন্যবাদ জানান।
অধিবেশনের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী ইভেট কুপারের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা আলোচনা হয়।
এর পাশাপাশি, কানাডার পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি রবার্ট অলিফ্যান্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিষয়ক উপমন্ত্রী আলভিন বোটেস, অ্যান্টিগুয়া ও বারমুডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেট গ্রিন এবং ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো অ্যাব্লাকওয়া-সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি প্রধানদের সঙ্গে তিনি আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রার্থিতার জন্য সমর্থনও কামনা করেন খলিলুর রহমান।
আজ সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কমনওয়েলথ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবে এবং সেন্ট জেমস প্যালেসে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।