
ভোলায় সিএনজিচালকদের বিরুদ্ধে বাস শ্রমিকদের ওপর হামলা ও বাস ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলার পাঁচটি অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকরা। এতে ওইসব রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টা থেকে হামলার প্রতিবাদ এবং দায়ীদের বিচারের দাবিতে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
বাস শ্রমিকদের অভিযোগ, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা শহরে সিএনজি শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় একটি বাস ও একটি বাস কাউন্টার ভাঙচুর করা হয় বলে তারা দাবি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে ভোলা সদরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড-এ অবস্থান নিয়ে বাস শ্রমিকরা সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে দুপুর ১টার দিকে তারা বাসস্ট্যান্ডের সামনে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রায় ২০ মিনিট সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক থেকে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে দেয় এবং অন্যান্য যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক করে। এছাড়া সড়কে কোনো সিএনজি দেখা গেলে সেটি থামিয়ে বাসস্ট্যান্ডের ভেতরে নিয়ে রাখা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
ভোলা জেলা বাস মিনিবাস ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, চরফ্যাশন উপজেলা শহরে সিএনজি চালকেরা নিজস্ব স্ট্যান্ড গড়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সিএনজি শ্রমিকরা বাস শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায় এবং একটি বাস ও বাস কাউন্টার ভাঙচুর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে জেলার পাঁচটি রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সিএনজি চালক ও মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ভোলা জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুল গনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে অন্যান্য যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেছে। তবে বাস চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।