
লন্ডনে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। বৈঠকে অংশ নিয়ে দেশের ওপর এই মানবিক সংকটের বাড়তে থাকা চাপের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে অনুষ্ঠিত ২৬তম কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক (সিএফএএমএম)-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এই বৈঠকে কমনওয়েলথের ৫৬টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক (সিএইচওজিএম)-এর সম্ভাব্য এজেন্ডা ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত মানদণ্ডের অবক্ষয় এবং নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে বর্তমান বিশ্ব যে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিএফএএমএম-এ বাংলাদেশের জনগণের একজন সত্যিকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি গর্বিত। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনীতিতে অসাধারণ নম্রতা এবং শাসনব্যবস্থায় প্রগতিশীল ধারণার মাধ্যমে সুশাসনের কমনওয়েলথ মূল্যবোধকে সুসংহত করছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী কমনওয়েলথ সচিবালয়ের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান, যারা একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল। দলটি দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার পর তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সাফল্যের প্রশংসা করা হয়েছে।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো অস্তিত্বগত সমস্যার মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিকেলের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি প্রায় এক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নতুন করে রোহিঙ্গাদের আগমন অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা ক্রমশ কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান।
বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট ইভেট কুপারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।