
জ্বালানি তেল সরবরাহ ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তেল ডিপোগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশি টহল জোরদারের আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (৭ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো দুটি পৃথক চিঠিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ডিপো থেকে ডিলাররা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না—এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
বিপিসির মতে, এই পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনা ছাড়াও খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশালের তেল ডিপোগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের এসব তেল ডিপো ‘কেপিআই’ বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আওতাভুক্ত। তাই জরুরি ভিত্তিতে এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ কারণে উল্লিখিত ডিপোগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা প্রয়োজন বলে বিপিসি মনে করছে।
আরেকটি চিঠিতে বিপিসি জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ভোক্তার মধ্যে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
এর ফলে ডিলাররা ডিপো থেকে আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি কিছু ভোক্তা ফিলিং স্টেশন থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুত করার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফিলিং স্টেশন থেকে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির পরিমাণ সীমিত করে ইতোমধ্যে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিপিসি।
তবে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ক্রেতা ও কর্মচারীদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা থাকায় সেখানে নিরাপত্তা জোরদার জরুরি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ জন্য দেশের সব ফিলিং স্টেশনে পুলিশি টহল বাড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিপিসি।