
দেশের বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া নিয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিচ্ছে। স্থানীয় ও বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে এই বিশাল দেনার বোঝা নিয়েই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, রমজান ও গ্রীষ্ম মৌসুমে বাড়তি চাহিদা সামাল দেওয়া সরকারে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমানে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট, যা গ্রীষ্মে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। তবে উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রাথমিক জ্বালানির সংস্থান, আর্থিক সংকট এবং বকেয়া পরিশোধ না হওয়া সরকারকে মাথাব্যথার মধ্যে ফেলেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, মোট স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৯৪ লাখ। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশি–বিদেশি কোম্পানির কাছে বকেয়া প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
বেসরকারি উৎপাদনকারীদের সংগঠন বিপপা সতর্ক করেছে, বিলের বকেয়া চার–পাঁচ মাসে না নামালে তেল আমদানি কঠিন হয়ে যাবে। এলসি খোলার পর দেশে তেল আসতে ৪০–৪৫ দিন সময় লাগে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “বর্তমান অগ্রাধিকার হলো রমজান ও সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। তবে বকেয়া, জ্বালানি এবং ফিন্যান্সিয়াল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বিদ্যুৎ খাত এখন চাহিদা, জ্বালানি, ডলার রিজার্ভ এবং বকেয়ার জটিল সমীকরণের মধ্যে রয়েছে। গরম মৌসুম যত এগোচ্ছে, সমস্যা ততই জটিল হয়ে উঠছে।