
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়ে তাঁর গুলশানের বাসভবনে ফিরে যাবেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রধান উপদেষ্টার শপথ নেওয়ার পর থেকেই তিনি যমুনায় অবস্থান করছিলেন।
যমুনা ভবনটি নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য প্রস্তুত করা হবে। নতুন প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী বাসভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকবেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী ড. ইউনূস যমুনায় আরও তিন মাস অবস্থানের সুযোগ রাখলেও তিনি আগেই ভবন ত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই অবস্থায় গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গত বৃহস্পতিবার যমুনা পরিদর্শন করেন। দলের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খান, নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, বিদ্যুতের নির্বাহী তাজিম মাশফিকসহ আরও কয়েকজন।
গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, "সাবেক প্রধান উপদেষ্টা দু-চার দিনের মধ্যেই বাসাটি ছেড়ে দেবেন। এরপর সেটাকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বসবাসের উপযোগী করতে এক মাসের মতো সময় লাগবে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বাসভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত যমুনাতেই তিনি থাকবেন।"
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন শেরেবাংলা নগরের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন গণভবনে ছিলেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ত্যাগ করার আগে পর্যন্ত তিনি গণভবনে অবস্থান করতেন। এরপর ভবনটিতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়, যা পরে জুলাই জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী বাসভবনের জন্য সরকার একটি নতুন স্থান নির্ধারণের চেষ্টা শুরু করে। এক পর্যায়ে গণভবনের পাশের একটি জায়গা নির্বাচন করা হয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দ্বারা। তবে নতুন ভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর থাকার স্থল হিসেবে যমুনা চূড়ান্ত করা হয়।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, "স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য ব্যবহারের যে আলোচনা হয়েছিল, সেটা বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ যারা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হবেন, তাদের জন্যও বাসা প্রয়োজন। তাই প্রধানমন্ত্রীর জন্য যমুনাকেই প্রস্তুত করা হবে। এ জন্য এক মাস সময় লাগবে।"
এদিকে স্থায়ী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের নকশা প্রস্তুত করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, "অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি নকশা করে দেওয়া হয়েছে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে সরকার।"
বিবিসি বাংলা সার্ভিস জানায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, অধ্যাপক ইউনূস ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকবেন। তিনি আগামী সপ্তাহ থেকে সেন্টারে অফিস শুরু করবেন এবং থ্রি জিরো কনসেপ্ট নিয়ে নিয়মিত কাজ করবেন। থ্রি জিরো কনসেপ্ট শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণের ধারণা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে। তবে প্রকাশ্যে তিনি এখনও কোনো মন্তব্য করেননি।
অধ্যাপক ইউনূসের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছেন, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি জাপানে যাবেন। সেখানে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনব্যাপী একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানের পর তিনি দেশে ফিরবেন এবং আপাতত অন্য কোনো দেশের সফরের পরিকল্পনা নেই।