
দেশের আট বিভাগের আটটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি, যা ভবিষ্যতে সারাদেশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের পর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদান-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে এবং কমিটিকে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী। প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সহায়তা দেওয়াই এই কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য। তবে কার্ডের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়; অর্থ ও পরিকল্পনা; স্বরাষ্ট্র; মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; শিল্প ও বাণিজ্য; তথ্য ও সম্প্রচার; খাদ্য; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; কৃষিসহ মোট ১২ জন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি দুই উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও অংশ নেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নবগঠিত কমিটি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর নকশা প্রণয়ন এবং স্বচ্ছ উপায়ে সুবিধাভোগী বাছাইয়ের পদ্ধতি নির্ধারণ করবে। প্রাথমিকভাবে আট বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় পাইলট প্রকল্প পরিচালিত হবে।
নারীদের জন্য বিদ্যমান কোনো কর্মসূচিকে এই উদ্যোগের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব কি না, তাও খতিয়ে দেখবে কমিটি। নির্ভুল উপকারভোগী তালিকা তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডেটাবেজের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে আধুনিক ডিজিটাল এমআইএস গঠনের সুপারিশও করা হবে।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-কে প্রধান করে ১৫ সদস্যের কমিটিতে আছেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনা সচিব এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।
বৈঠক শেষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মন্ত্রী জানান, পাঁচ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কার্ডধারী পরিবারগুলো মাসে নগদ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। এ জন্য ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলা ও উপজেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। কার্ড প্রদানে হতদরিদ্র ও নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, "ফ্যামিলি কার্ড হবে সর্বজনীন। কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় এখানে বিবেচ্য হবে না। সরাসরি কীভাবে উপকারভোগীর হাতে এই টাকা পৌঁছানো যায়, সে বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হবে। এখন যেসব কার্ড প্রচলিত আছে, সেগুলো চলমান থাকবে।"
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, "প্রধানমন্ত্রী চান পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে এই ঈদের আগে এই কার্যক্রম শুরু করতে। নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বামপন্থি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-র উদ্বেগ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, "কার্ড চালুর বিষয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই, সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।" তিনি আরও জানান, কার্ড বিতরণ ও পণ্য সরবরাহের প্রক্রিয়া নির্ধারণে কারিগরি কাজ চলছে এবং পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তীতে দেশজুড়ে কর্মসূচি বিস্তৃত করা হবে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, "ধাপে ধাপে দেশের সব পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।"