
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র পক্ষ থেকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান-এর নামও আলোচনায় আছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি পদের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর সম্ভাব্য পদত্যাগের ইঙ্গিতকে কেন্দ্র করে। গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৫ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগে আগ্রহী। সাংবিধানিকভাবে তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার গঠনের পর সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সে সময় বঙ্গভবন ও বিভিন্ন দপ্তর থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনায় নিজের অপমানবোধের কথাও উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকা ৭৯ বছর বয়সী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবার কুমিল্লা-১ আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক অতীতে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে জনমত গঠনে তার ভূমিকার কথাও দলীয় নেতারা উল্লেখ করছেন।
দলীয় জনসভায় পূর্বে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং খন্দকার মোশাররফ রাষ্ট্রপতি হবেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজেকে কিছুটা রাজনৈতিক প্রচারের আড়ালে রেখেছেন, যাতে তাকে ঘিরে কোনো বিতর্ক না তৈরি হয়—যা তার সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অন্যদিকে নজরুল ইসলাম খান রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় থাকলেও দলের একটি বড় অংশ তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে আগ্রহী। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-র জানাজায় কেন্দ্রীয় বক্তা হিসেবেও তার উপস্থিতি আলোচনায় আসে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভা গঠনের পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্ত হতে পারে। আপাতত সবার দৃষ্টি মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দিকে, সেখান থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি বিষয়ে আগাম ইঙ্গিত মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।