
শীতের কুয়াশা ভেদ করে ভোর থেকেই ভোটারদের ঢল নেমেছে কেন্দ্রে কেন্দ্রে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে।
দিনের শুরুতেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়ে। অনেক স্থানে ভোট শুরুর আগেই নারী ও পুরুষ ভোটাররা আলাদা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। রাজধানীর ঢাকা ৬ আসনের গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দীর্ঘ সারির চিত্র দেখা যায়। এই প্রতিষ্ঠানে মোট চারটি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার দুটি নারীদের এবং দুটি পুরুষদের জন্য। নির্ধারিত সময়েই সেখানে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
একই আসনের সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ কেন্দ্রে প্রথমবার ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সাজ্জাদূর ইসলাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রেও সকাল হওয়ার আগেই ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক লাইন ছিল। কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম এবং ঢাবির কলা অনুষদের ডিন ছিদ্দিকুর রহমান খান।
পরিদর্শন শেষে ডিসি মাসুদ আলম বলেন, ইতিহাসের একটি সেরা নির্বাচন হতে যাচ্ছে এটি। সকাল থেকে রমনা বিভাগের বেশ কিছু কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। কোথাও কোথাও এরই মধ্যে ভোটাররা ভোট দিতে এসেছেন। ভোটগ্রহণ শুরু হলে এই উপস্থিতি আরো বাড়বে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণ ভোট দেবে। নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে যত শক্তিই আসুক না কেন, আজকে কোনো ছাড় নেই।
রাজধানীর শনির আখড়ার বর্ণমালা স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন অনার্স শিক্ষার্থী কাউসার আহমেদ। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, রাতে ঘুমাইতে পারি নাই, ভোট দেব এই আবেগে। ফজরের পর এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এই কেন্দ্রে আমি দ্বিতীয় ভোটার ছিলাম।
যদিও ভোটের আগে তরুণদের মধ্যে বেশি আগ্রহ দেখা গেছে, তবে সকালে কেন্দ্রে উপস্থিতির ক্ষেত্রে মধ্যবয়সী ও প্রবীণ ভোটারদের সংখ্যাই বেশি ছিল। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য।
প্রতিটি কেন্দ্রের নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রার্থীদের অস্থায়ী বুথ বসানো হয়েছে। তবে কোথাও কোনো সংঘর্ষ বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার ও বিজিবির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় শেরপুর ৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে ওই আসন ছাড়া বাকি ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ চলছে।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ২৯৯টি আসনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে রয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ। এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫০টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৮ জন, যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন, যার ৬৩ জন দলীয় এবং ২০ জন স্বতন্ত্র। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। নিবন্ধিত ১০টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেয়নি।