
অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড ও বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের (নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) সভাপতি এ কে আজাদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকারও আগের সরকারগুলোর মতোই বিচারব্যবস্থাকে ‘পঙ্গু’ করে রেখেছে এবং সাধারণ মানুষকে বিনাবিচারে কারাগারে আটকে রাখা হচ্ছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীতে মিডিয়া রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) আয়োজিত এক নীতি সংলাপে এসব কথা বলেন এ কে আজাদ।
সংলাপে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের কাছে আমরা অনেক স্বাধীনতা আশা করেছিলাম। কিন্তু অবস্থা কী?’ সরকারের একজন উপদেষ্টার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘তিনি জানেন ১২ তারিখে তিনি চলে যাবেন, তাহলে কেন ন্যায়বিচার দিচ্ছেন না? তিনি কেন নিরীহ লোককে জেলের মধ্যে পুষে রাখছেন এবং তাদের বেইল (জামিন) দিচ্ছেন না?’
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নোয়াব সভাপতি। তিনি বলেন, ‘যেসব বিচারক ন্যায়সঙ্গতভাবে জামিন দিচ্ছেন, তাদের অনেক সময় বদলি করা হচ্ছে। তাহলে ন্যায়বিচার কোথায়?’ একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, ‘এই সরকার যদি ১২ তারিখের পর না-ই থাকে, তবে তাদের কিসের ভয়? কেন তারা বিচারব্যবস্থাকে এভাবে পঙ্গু করে রেখেছে?’
বর্তমান ও অতীত সব সরকারের চরিত্র প্রায় একই বলে মন্তব্য করে এ কে আজাদ বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলমান রয়েছে। তার অভিযোগ, নিরীহ মানুষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ অর্থ আদায় করছে—যারা টাকা দিতে পারছে তারা মুক্তি পাচ্ছে, আর যারা পারছে না তারা কারাগারে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের অপব্যবহার হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গণমাধ্যমের ওপর চাপের প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এ কে আজাদ বলেন, ‘অতীতে আমার বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কেন ভাঙা হলো—সে বিষয়ে কোনো গণমাধ্যম অনুসন্ধান করেনি। ভয় থেকেই এই নীরবতা।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, আজ একটি পত্রিকা আক্রান্ত হলে কাল অন্যটির পালা আসতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বিভক্ত থাকলে সাংবাদিকতা টিকে থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
নীতি সংলাপে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন এবং যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদসহ গণমাধ্যম অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা।