
চাকরির প্রতিশ্রুতি পেয়ে রাশিয়ায় গিয়ে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিকরা ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ইলেকট্রিশিয়ানসহ সাধারণ কাজের আশ্বাস দিয়ে রাশিয়ায় পাঠানো হলেও পরে তাদের জোরপূর্বক ইউক্রেনের সামরিক সংঘর্ষে যুক্ত করা হচ্ছে। এ তথ্য প্রকাশ করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
প্রতিবেদনে লক্ষ্মীপুরের মাকসুদুর রহমানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির জন্য রাশিয়ায় গেলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নিজেকে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখে দেখেন।
মাকসুদুরের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে ও অন্যান্য শ্রমিকদের সামরিক চুক্তি সংক্রান্ত কিছু নথিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। এরপর তাদের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ড্রোন পরিচালনা, আহতদের সরিয়ে নেওয়া এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
“কাজ করতে অস্বীকার করলে আমাদের মারধর করা হতো এবং ১০ বছরের কারাদণ্ডের হুমকি দেওয়া হতো। সাত মাস পর আমি পালিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হই, তবে সঙ্গে যাওয়া আরও কয়েকজনের কোনো খোঁজ মেলেনি,” বলেন মাকসুদুর।
এপি জানিয়েছে, তারা ভুক্তভোগীদের দাবি সমর্থনে ভ্রমণ নথি, রাশিয়ান সামরিক চুক্তি, চিকিৎসা ও পুলিশ প্রতিবেদন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি সংগ্রহ করেছে। এসব প্রমাণে দেখা যায়, কীভাবে শ্রমিকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে মুন্সিগঞ্জের মোহন মিয়াজির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ইলেকট্রিশিয়ানের চাকরির আশ্বাসে রাশিয়ার একটি গ্যাস কারখানায় গিয়েছিলেন। কিন্তু ইউক্রেনের আভদিভকা শহরের সামরিক ক্যাম্পে পৌঁছে তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারণা করা হয়েছে। মোহন জানান, আদেশ অমান্য করলে শারীরিক নির্যাতন, হাতকড়া ও ভূগর্ভস্থ কুঠুরিতে জিম্মি রাখার মতো শাস্তি হতো।
এদিকে, এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা বাংলাদেশের সরকার এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবার বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে।
এক শ্রমিক পরিবারের সদস্য সালমা আক্তার জানান, তার স্বামী আজগর হোসেন শেষবার গত বছরের ২৬ মার্চ যোগাযোগ করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, “আমাকে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। আমার জন্য দোয়া করো।”