
ঋণগ্রহীতা অর্থাৎ যার কাছে মানুষের ঋণের অর্থ রয়েছে, তিনি ঋণ থেকে প্রাপ্ত অর্থের নিসাব ও বছর পূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে যাকাত প্রদান করবেন কি-না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। তাহলো-
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ, রৌপ্য অথবা ব্যবসায়ী পণ্যের মালিক হন, তবে তিনি তার সম্পদের যাকাত দেবেন, ঋণের কারণে যাকাত মওকুফ হবে না। সে ক্ষেত্রে তিনি নিজের অন্যান্য সম্পদের সঙ্গে ঋণ থেকে প্রাপ্ত অর্থ যোগ করবেন, অতঃপর পূর্ণ সম্পদের ওপর ২.৫% যাকাত প্রদান করবেন।
ঋণগ্রহীতা ঋণ থেকে প্রাপ্ত অর্থের যাকাত প্রদান করবেন, যদি ঋণ থেকে প্রাপ্ত অর্থ নিসাব পরিমাণ হয় ও তাতে বছর পূর্ণ হয় এবং সম্পদ তার আয়ত্তে ও কর্তৃত্বে থাকে। হযরত উমার (রা.) যাকাত আদায়ের সময় প্রত্যক্ষ সব সম্পদের যাকাত গ্রহণ করতেন, তাই তাতে ঋণ থাকুক বা না থাকুক।
প্রশ্ন: ব্যাংক থেকে যে লোন তোলা হয় যাকাত আদায়কালে কি তা কর্তন হবে?
উত্তর: সাধারণত ব্যাংকের ঋণগুলো সুদভিত্তিক হয়ে থাকে। আর সুদের ভিত্তিতে ঋণ প্রদান-গ্রহন কোনোটিই জায়েজ নাই।
যদি কেউ ব্যাংক থেকে সুদি ঋণ নিয়ে থাকে তাহলে তার জন্য আবশ্যক হলো, দ্রুত সেই ঋণ পরিশোধ করে দিয়ে সুদ থেকে আল্লাহ তায়ালার কাছে তওবাহ করা।
ব্যাংকের ঋণ বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। ঋণ যদি দীর্ঘ মেয়াদী হয় এবং এই পর্যায়ের হয় যা কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে, তাহলে ওই বছর যেই পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হবে সেই পরিমাণ টাকা/সম্পদ যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বিয়োগ দিয়ে অবশিষ্ট সম্পত্তির যাকাত আদায় করতে হবে। সম্পূর্ণ ঋণকে যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বিয়োগ দেওয়া যাবে না।
যাকাত ইসলামের একটি ফরজ বিধান এবং ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। যদি কোনো মুসলিমের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ (স্বর্ণ ৭.৫ ভরি বা রুপা ৫২.৫ ভরি) এক বছর পূর্ণ সময় সঞ্চিত থাকে, তবে তার ওপর যাকাত দেওয়া ফরজ। মোট বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫% বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত হিসেবে প্রদান করতে হয়।
এর মাধ্যমে সম্পদের পবিত্রতা অর্জিত হয় এবং সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়।