
আজ পবিত্র শবে বরাত। হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত এই রাতটি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত ও ফজিলতপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র শবে বরাত পালন করা হবে।
ফারসি ভাষায় ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। সেই হিসেবে শবে বরাত গুনাহগার বান্দার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের রাত হিসেবে পরিচিত। আরবি ভাষায় এ রাতকে বলা হয় ‘লাইলাতুল বরাত’। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং বান্দাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন। তিনি ঘোষণা করেন, “আছে কি কেউ ক্ষমা চাওয়ার, যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কেউ রিজিক চাওয়ার, যাকে আমি রিজিক দেব?”
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পবিত্র রাতে আগামী এক বছরের মানুষের রিজিক, জন্ম ও মৃত্যু সহ নির্ধারিত ভাগ্যলিপি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়। সে কারণে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রাতটি ইবাদত ও বন্দেগিতে অতিবাহিত করেন।
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বাণী প্রদান করেছেন। এ উপলক্ষে বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা পবিত্র শবে বরাতকে আল্লাহর রহমত লাভের এক অনন্য সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া করা এবং মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতি তিনি শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।
বাণীতে তিনি বলেন, “মহিমান্বিত এই রাতে আমরা ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য ও ক্ষমা লাভ করতে পারি। আত্মসমালোচনা ও তওবার মাধ্যমে জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং গুনাহ থেকে পরিশুদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অর্জন করতে পারি আল্লাহ তায়ালার অসীম অনুগ্রহ, বরকত ও মাগফেরাত।”
এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির পাশাপাশি মসজিদে মসজিদে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির ও ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মাগরিবের নামাজের পর ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে জাতীয় মসজিদে লাইলাতুল বরাতের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকার বাদামতলী শাহজাদা লেন জামে মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমী পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বরাতের ফজিলত, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে ওয়াজ করবেন। রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন লাইলাতুল বরাতের শিক্ষা, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে আলোচনা করবেন। এতে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আ. ছালাম খান।
ব্যক্তিগত নফল ইবাদত ও জিকির-আজকারের জন্য বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ সারা রাত মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ফজরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শবে বরাতের কর্মসূচি শেষ হবে। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
এ ছাড়া পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ইসলামিক মিশন কেন্দ্র এবং ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতেও আলোচনা সভা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিও স্টেশন এ উপলক্ষে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।
এই মহিমান্বিত রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় রাত জেগে ইবাদতে মশগুল থাকবেন। পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে।