
লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবারও রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন বামপন্থি নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রোববারের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে প্রায় ৪৪ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন তিনি। তবে এই পরাজয় মেনে নিতে রাজি নন সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও। ভোটগ্রহণের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি নির্বাচনের ফল পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্টের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, সব ভোট গণনা শেষে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট, যার সংখ্যা ৬ কোটি ৪২ লাখের বেশি। বিপরীতে লিবারেল পার্টির প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট, অর্থাৎ ৫ কোটি ৯৮ লাখের বেশি। আগামী মঙ্গলবার ৮১ বছরে পা দিতে যাওয়া লুলার এই জয় লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে বামপন্থিদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কেও তাৎপর্যপূর্ণ এই জয়
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির দিক থেকেও ব্রাজিলের নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত মিত্র হিসেবে পরিচিত বলসোনারো পরিবারের বিপরীতে লুলা ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক। ফলে লুলার পুনর্নির্বাচন ওয়াশিংটনের সঙ্গে ব্রাজিলের কূটনৈতিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভোটের সময় বাড়ানো নিয়ে আপত্তি
রোববার রাতেই পরাজয় স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান ফ্লাভিও বলসোনারো। ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র তিন মিনিট আগে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্রিস্তিয়ানো জানিন ভোটকেন্দ্রগুলোর সময়সীমা আরও দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নির্ধারণ করেন। ফ্লাভিওর দাবি, এমন সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন ও বেআইনি। তাই এই প্রক্রিয়ায় ঘোষিত ফল গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল দুই পক্ষই। সাও পাওলো ও সালভাদরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত বাস না থাকায় সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানায় লুলার প্রচার দল। অন্যদিকে, দক্ষিণ ব্রাজিলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল বলসোনারোর শিবিরও।
ফল বাতিলের দাবিতে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত
আদালতের নির্দেশের কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গণনা শুরু হতে অন্তত দুই ঘণ্টা দেরি হয়। এ ছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভোটিং মেশিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেগুলো আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
বলসোনারোর ঘনিষ্ঠ আইনপ্রণেতা নিকোলাস ফেরেইরা অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া বিচারপতি জানিন অতীতে লুলার আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বলসোনারোর শিবির।
এদিকে ফল নিয়ে আপত্তি ও আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও লাতিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নেতারা ইতিমধ্যে লুলাকে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।