
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শুষ্ক ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টিতে আগুনে অন্তত ছয়টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কায় প্রায় ৬ হাজার বাড়ির ১৬ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) উপকূলীয় শহর সান ক্লেমেন্তে থেকে ‘নর্তে ফায়ার’ নামের দাবানলটির সূত্রপাত হয়। পরে আগুন পার্শ্ববর্তী সান হুয়ান ক্যাপিস্ত্রানো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে দুই শহরেই ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নিনির্বাপণ সংস্থা ক্যাল ফায়ারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ আগুনে প্রায় ২৩১ হেক্টর পাহাড়ি বনভূমি ও আশপাশের এলাকা পুড়ে গেছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রা, বাতাসে আর্দ্রতার ঘাটতি এবং ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বয়ে চলা শুষ্ক ‘সান্তা আনা’ বাতাস আগুনের বিস্তার ত্বরান্বিত করছে। শনিবার রাত পর্যন্ত চরম গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।
দাবানলের নতুন সূত্রপাত ঠেকাতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কয়েক হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। ঝোড়ো বাতাসে বৈদ্যুতিক তার থেকে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়ে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দমকল বিভাগ। আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার থেকে পানি ছোড়ার পাশাপাশি কয়েক শ অগ্নিনির্বাপক কর্মী মাটিতে কাজ করছেন।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও দুটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মালিবু-সংলগ্ন এলাকায় ‘ব্রাইসন ফায়ার’-এ প্রায় ৫৯ হেক্টর এলাকা পুড়েছে। আগুনের মাত্র ১৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অন্যদিকে সান দিয়েগো কাউন্টির ‘হেন্ডারসন ফায়ার’-এ পুড়েছে প্রায় ৮৪২ হেক্টর এলাকা; নিয়ন্ত্রণে এসেছে ২০ শতাংশ।
হেন্ডারসন ফায়ারের প্রভাবে মার্কিন মেরিন কোরের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ক্যাম্প পেন্ডলটন এলাকাতেও পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে আশপাশের একাধিক মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।