
গণহারে নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো প্রক্রিয়াকে সমর্থন করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া।
রোববার (৪ অক্টোবর) হায়দরাবাদের নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
‘লক্ষ লক্ষ মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানানো যায় না’
বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া বলেন, কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি লক্ষ লক্ষ ভারতীয়কে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজ দেশেই ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’-এ পরিণত করা হয়, তাহলে সেই প্রক্রিয়াকে স্বভাবতই স্বেচ্ছাচারী হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এমন পদক্ষেপের পক্ষে কোনো ‘পালটা যুক্তি’ দেখিয়েও সেটিকে বৈধতা দেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ভারতের সংবিধানে এমন কোনো ধারণা নেই, যেখানে ভোটাধিকার থাকা এবং না-থাকার ভিত্তিতে নাগরিকদের দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাপকসংখ্যক নাগরিককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোনো প্রক্রিয়া সংবিধানের ১৪ ও ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
ভোটাধিকার নাগরিকত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত
বিচারপতি ভূঁইয়া বলেন, নাগরিকের পরিচয় থেকে ভোটাধিকারকে আলাদা করে দেখা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ভোটাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ে ভোটাধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া না হলেও সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকায় কারও নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তিনি মারা যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে নাম বাদ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিস দেওয়া এবং নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ রাখা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
কোটিপতি ও রিকশাচালকের ভোটের মূল্য সমান
বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার মতে, সর্বজনীন ভোটাধিকারের মধ্যেই নাগরিকদের সমতার মূল প্রকাশ ঘটে। একজন কোটিপতি ও একজন রিকশাচালকের ভোটের মূল্য একই—এই নীতিই ভোটাধিকারের অন্তর্নিহিত সমতার দিকটি তুলে ধরে।
তিনি বলেন, ভোটাধিকার নাগরিকত্বের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তি হিসেবেও এর গুরুত্ব অপরিসীম।
সূত্র: এবিপি নিউজ