-6ab41dd71619c.webp)
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের সামনে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইরান কোনো সন্ত্রাসী রাষ্ট্র নয়; বরং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের অন্যতম বড় ভুক্তভোগী দেশ।
পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকলে তেহরান আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে হুমকি কিংবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে নিজের অবস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এর আগের দিন ট্রাম্প ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় পেজেশকিয়ান বলেন, প্রকৃত সন্ত্রাসী তারাই, যারা কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই অন্য দেশের ভূখণ্ডে বোমা হামলা চালায় এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে।
ইরানের বিভিন্ন শহরে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। এসব হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও গত সাত মাস ধরে ইরানের সাধারণ মানুষ সাহস ও বীরত্বের সঙ্গে নিজেদের মাতৃভূমি রক্ষা করে যাচ্ছেন।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, পারমাণবিক বোমা কিংবা অন্য কোনো মারণাস্ত্র তৈরির কোনো ইচ্ছা ইরানের নেই। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসাসহ শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরানের রয়েছে এবং সেই অধিকার কোনোভাবেই ত্যাগ করবে না তেহরান।
বিশ্বরাজনীতিতে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে দ্বৈত নীতির অভিযোগও তোলেন পেজেশকিয়ান। তার বক্তব্য, ইসরাইলের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার পরও দেশটিকে কোনো ধরনের জবাবদিহির মুখে পড়তে হয় না। বিপরীতে ইরানের ওপর আরোপ করা হয় কঠোর নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞা। একই সঙ্গে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানিরও তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এরপর জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়। কিন্তু সেই শান্তির উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রবন্দরগুলোতে সামরিক অবরোধ আরও জোরদার করে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় বলে জানান পেজেশকিয়ান।
সংকট ও সংঘাতের এই পরিস্থিতির মধ্যেও জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পেজেশকিয়ান। তার বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—হুমকি, চাপ কিংবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে নতি স্বীকার করানো যাবে না।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি