
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির অর্থনীতিকে বৈশ্বিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এর নাম দিয়েছেন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’। এর লক্ষ্য ইরানের তেল, সোনা, প্রযুক্তিসহ আয়ের বিভিন্ন উৎস বন্ধ করে দেওয়া। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তেহরান এখনো দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
ইরানিরা কয়েক দশক ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে অভ্যস্ত। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞাকেও অনেকটা পুরোনো বাস্তবতার পুনরাবৃত্তি হিসেবেই দেখছে তারা। তবে সাধারণ মানুষ ও রাজনীতিকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। কারণ দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী এবং স্থানীয় মুদ্রার মূল্য রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকারী ইরানি দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, মার্কিন বক্তব্যকে কেউ গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না। তাঁর মতে, অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের নেই। ইরানের বাণিজ্য অংশীদাররাও মার্কিন অবস্থানকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য তেহরানকে চাপের মুখে ফেলা। তবে নিজেদের অধিকার থেকে সরে আসবে না ইরান। নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দেশটি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত বা ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। মিত্র দেশগুলোর প্রতিও তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার চাপ দিচ্ছেন।
তবে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও মাথা নত না করার অবস্থানেই অনড় রয়েছে তেহরান।