
ইরানি সামরিক পাইলটদের আটক করার অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দাবিকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে এ ধরনের ভুয়া খবর প্রকাশ করা অত্যন্ত বিস্ময়কর। বরং নিখোঁজ পাইলটদের খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) এ তথ্য জানা গেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি পরিষ্কার করেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট পাইলটরা কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সাড়া না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক আইন ও সংঘাতের প্রচলিত নিয়ম মেনেই কাতার নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কাতার অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে।
এই অভিযানে একজন পাইলটের মরদেহ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। মরদেহটি ইরানের কাছে হস্তান্তরের জন্য কাতার তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
এ ছাড়া উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইরানকে একটি দল কাতারে পাঠানোর আমন্ত্রণ জানিয়েছে দোহা। তবে এখনো ইরান ওই আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি বলে জানান কাতারি মুখপাত্র।
এর আগে শনিবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের সামরিক কমান্ডার সৈয়দ মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেন, এপ্রিল মাসে কাতারের আকাশসীমায় ভূপাতিত হওয়া দুটি সু-২৪ যুদ্ধবিমানের তিন পাইলটকে দোহায় কয়েক মাস ধরে আটক রাখা হয়েছে।
ইরান এর আগে জানিয়েছিল, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পাইলট মাজিদ কাজেমির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তিনি ভূপাতিত হওয়া দুটি সু-২৪ যুদ্ধবিমানের একটির ক্রু সদস্য ছিলেন।
ইরানি সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, ওই দুটি বিমানের বাকি তিন ক্রু সদস্যের কী হয়েছে, তা জানতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
এদিকে গত জুনে কাতারের রাস লাফান গ্যাস কমপ্লেক্সে ইরান হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে কাতার তেহরানকে একটি ‘গোপন চুক্তির’ প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। ওই প্রস্তাবে কাতার গ্যাস উৎপাদন বন্ধ রাখার বিনিময়ে ইরানের কাছ থেকে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা চেয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা এখনো পুনরায় শুরু হয়নি বলেও জানান তিনি।
হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে বলেও জানান আরাগচি।