
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে ইরান। তেহরানের মতে, এ অঞ্চলের দেশগুলো বুঝতে শুরু করেছে যে নিরাপত্তা কোনো পণ্য নয়, যা কারও কাছ থেকে কিনে নেওয়া যায়।
সোমবার (১০ জুলাই) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গত সপ্তাহে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এ অঞ্চলের দেশগুলোর অবস্থান পরিবর্তনের একটি প্রতিফলন।
সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, এই অঞ্চলের দেশগুলো উপলব্ধি করেছে যে নিরাপত্তা কোনো পণ্য নয়। এটি কোনো ভুয়া দালালের কাছ থেকে কেনার মতো বিষয় নয়।
বাঘেই আরও বলেন, চুক্তিটি তেহরানকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে—এমন আশঙ্কা থেকে ইরানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
তার ভাষ্য, এ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার ভিত্তিতে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগ নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে জায়নবাদী শত্রু ও তাদের মিত্রদের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা এবং অপব্যবহার ঠেকাতেও এসব উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।