
বিদেশে কর্মরত ও বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতিতে থাকা বাংলাদেশিদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে চালু হতে যাচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের আর্থিক লেনদেন আরও সহজ ও নিরাপদ করার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হবে।
চলতি আগস্টের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্ডটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ লক্ষ্যে সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনতা ব্যাংক পিএলসির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
রাজধানীতে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ‘প্রবাসী কার্ড চালুর মাধ্যমে আমরা একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছি।’
দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা দেওয়া এবং দেশে অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যেই ডিজিটাল প্রবাসী কার্ড চালু করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সরাসরি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দ্রুত ও নিরাপদে লেনদেন করতে পারবেন। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার পথও সহজ হবে।
জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দিতে তাদের জন্য সময়োপযোগী সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, সরকারের নির্ধারিত সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ অনুযায়ী প্রবাসীদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, প্রবাসী কার্ড চালুর জন্য এমওইউ সই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মন্ত্রণালয় ও জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে থাকা এবং বিদেশে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের আর্থিক লেনদেন সহজ করা ও ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনাই এ উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। কার্ডটির মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন আর্থিক ও সরকারি সেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনতা ব্যাংক পিএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।