
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর এবার পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী হরজোত সিং বেইন্সকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। বিভিন্ন নিয়োগ ও পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করেছে বিজেপি। যদিও এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (এএপি)।
রোববার (২৬ জুলাই) বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি প্রশ্ন তোলেন, পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নৈতিকতার প্রশ্নে অরবিন্দ কেজরিওয়াল কবে পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করবেন।
বিজেপির অভিযোগ, পাঞ্জাব স্কুল এডুকেশন বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা, পাঞ্জাব স্টেট টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (পিএসটিইটি) এবং কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এছাড়া পাঞ্জাব সাব-অর্ডিনেট সার্ভিসেস সিলেকশন বোর্ডের গ্রুপ-বি নিয়োগ এবং সম্মিলিত নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ তোলে দলটি।
এছাড়াও নাইব তহসিলদার ও ফার্মাসি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক নকলের অভিযোগ এবং এক্সাইজ অ্যান্ড ট্যাক্সেশন ইন্সপেক্টর নিয়োগের মেধাতালিকায় ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার অভিযোগও করেছে বিজেপি।
একই অভিযোগ তুলেছে পাঞ্জাব কংগ্রেসও। দলটির সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং দাবি করেন, গত চার বছরে রাজ্যে অন্তত ছয়টি বড় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, "পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী হরজোত বেইন্স কবে পদত্যাগ করবেন? চার বছর, ছয়টি বড় প্রশ্নফাঁস, অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ধ্বংস—তবু কোনো জবাবদিহি নেই। পাঞ্জাবের শিক্ষার্থীরা উত্তর চান, জবাবদিহি চান এবং ভালো ভবিষ্যৎ চান।"
তবে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান বলেন, "গত সাড়ে চার বছরে পাঞ্জাবে একটিও প্রশ্নফাঁস হয়নি। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, ভবিষ্যতেও পাঞ্জাবে কোনো প্রশ্নফাঁস হবে না। এটি আমার গ্যারান্টি।"
তিনি আরও জানান, দুটি কেন্দ্রে পরীক্ষার সময় নকলের ঘটনা ধরা পড়েছিল। তবে প্রশাসন মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা নেয় এবং নকল চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তার দাবি, কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।
এএপির আরেক নেতা বালতেজ পান্নুও বিজেপি ও কংগ্রেসের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, একটি ঘটনায় কয়েকজন পরীক্ষার্থী ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সেটিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।
বালতেজ পান্নুর অভিযোগ, বিজেপি ও কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে নকলের ঘটনাকে প্রশ্নফাঁস হিসেবে প্রচার করছে। তার ভাষ্য, এর মাধ্যমে তারা নিজেদের শাসনামলের বিভিন্ন বিতর্ক থেকে জনদৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও দাবি করেন, কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের আমলে ৯০টিরও বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। এখন সেই দায় এড়াতেই বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরই পাঞ্জাবকে ঘিরে এই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের প্রতিবাদে এক মাস ধরে দিল্লিতে আন্দোলনের পর শনিবার পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি