
রানে টানা দশম রাতের মতো সিরিজ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হাইমার্স (HIMARS) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সাথে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত এবং ইয়েমেনের হুথিদের সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধের ঘোষণায় পুরো অঞ্চল এখন এক বিধ্বংসী সংঘাতের দোরগোড়ায়।
আল জাজিরা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই অভিযানের ফলে ইরানের স্ট্র্যাটেজিক এলাকা সিরিক, বন্দর আব্বাস, বন্দর লেঙ্গেহ, কেশম দ্বীপ, চাবাহার, কোনারাক, ইসফাহান ও শিরাজে একাধিক বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, সমুদ্রের দিক থেকে বিকট আওয়াজ শোনা গেলেও ঠিক কোথায় এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, বাণিজ্যিক নৌযানে ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ও হুমকি নস্যাৎ করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েতের ‘ক্যাম্প আরিফজান’-এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের হাইমার্স মিসাইল সিস্টেম লক্ষ্য করে তারা শক্তিশালী ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এছাড়া বাহরাইনে থাকা একটি মার্কিন রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার দাবিও করেছে আইআরজিসি।
সোমবার (২০ জুলাই) হরমুজ প্রণালিতে গ্রিক মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাংকার আক্রমণের শিকার হয়। যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের লিমাহ উপকূলের কাছেও অপর একটি ট্যাংকারে আঘাত হানা হয়েছে।
ইউএস ডিরেক্টিভ বা 'ভুয়া তথ্যে' কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে:
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং এ পথ দিয়ে এক ফোঁটা তেল, গ্যাস বা রাসায়নিক সারও রপ্তানি করা হবে না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক কড়া বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২০ জুলাই) রাতে জানিয়ে দেন:
মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র ২০ গুণ বেশি শক্তি নিয়ে হামলা চালাবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও বর্তমানে তাদের অগ্রাধিকার হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করা। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটালে পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
হোয়াইট হাউস আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্পের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ইরানে হামলা বন্ধ হবে না। তবে তারা স্বীকার করেছে যে আড়ালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনাও অব্যহত রয়েছে।
সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ওপর নতুন করে অবরোধ জারি করেছে। এই পদক্ষেপের কারণে দীর্ঘ চার বছর ধরে শান্ত থাকা ইয়েমেন সংঘাত নতুন করে উসকে উঠার পাশাপাশি লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ল।