
পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ ও বাধা সত্ত্বেও নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটতে নারাজ ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মূল দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই লড়াই অব্যাহত রাখার অনড় ঘোষণা দিয়েছে উঠতি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মটি।
সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বারতায় দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এই কঠোর আন্দোলনের বার্তা দেন। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ আপডেটটি তুলে ধরা হয়েছে।
এক্সে দেওয়া সেই পোস্টে সৌরভ দাস স্পষ্ট ভাষায় লিখেন:
‘আমি দুপুর ১২টা থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবনে আছি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ বা বরখাস্তসহ আমাদের দাবিগুলো জানানো হয়েছে। মন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি যথাযথ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।’
এর আগে সোমবার সকালে সিজেপির পূর্বঘোষিত ভারতীয় পার্লামেন্ট অভিমুখী বিশাল ‘লং মার্চ’ কর্মসূচিতে চড়াও হয় পুলিশ। মিছিল লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ চালিয়ে পুরো আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
ভারতের অন্যতম শীর্ষ তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (এনআইআইটি/নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জুন থেকে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ফেসবুকভিত্তিক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি। পরবর্তীতে সিজেপির এই গণদাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে গত ২৮ জুন থেকে অনশনে যোগ দেন প্রখ্যাত জলবায়ু ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
পূর্বসূচি অনুযায়ী, সোমবার সকালে রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর এলাকা থেকে দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করার কথা ছিল আন্দোলনকারীদের। তবে কর্মসূচি শুরু হতেই আচমকা অভিযান চালায় পুলিশ। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়, পদযাত্রা ভণ্ডুল করতে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উল্লেখ্য, এই সংসদ অভিযান কর্মসূচি সফল করতে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আগাম অনুমতি চেয়েছিল সিজেপি। তবে দিল্লি পুলিশ তা নাকচ করে দিলে অনুমতি ছাড়াই রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব।