
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি সামরিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন সেনাদের অবস্থান ও রসদ সরবরাহকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য, এসব অভিযান ‘অপারেশন নাসর-২’-এর অংশ।
শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের স্থল বাহিনী ক্যাম্প আরিফজানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি লজিস্টিকস বা রসদ সরবরাহকেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। এ হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
একই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড্রোন হামলার মাধ্যমে আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ওই ঘাঁটির একটি অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন সংরক্ষণস্থলেও হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।
বাহিনীটি জানিয়েছে, তাদের স্থল বাহিনীর পাল্টা অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, সরাসরি যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন হাসপাতাল, সেতু, রেলপথ, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো এবং বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষেও স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্য এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তাদের নৌবাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের আল আহমাদি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের জ্বালানি সরবরাহ ঘাঁটি, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং বাতেলকো সংশ্লিষ্ট একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংকেত ও যোগাযোগকেন্দ্র ধ্বংসের দাবিও করেছে বাহিনীটি।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, অভিযান চলাকালে তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখলে ইরান আরও বিস্তৃত পরিসরে পাল্টা জবাব দেবে।
এদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী পৃথক এক দাবিতে জানিয়েছে, তারা ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইরানের দাবি, গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও এরপরও যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের ভাষ্য, এসব হামলা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক অভিযানের অংশ।
তেহরান আরও জানায়, গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও সামরিক হামলা বন্ধ হয়নি। তাদের মতে, ওই সমঝোতার প্রথম শর্তই ছিল সব ধরনের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ রাখা।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি