
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে হঠাৎ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তের পর রাজধানী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কিয়েভের ইভান ফ্রাঙ্কো স্কয়ারে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা ‘ধিক্কার’ স্লোগান দেন।
মাত্র ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। তার আকস্মিক অপসারণে সেনাবাহিনী, বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ওলেকসান্দর নামে এক ইউক্রেনীয় সেনা বলেন, ‘এটি জেলেনস্কির পুরো প্রেসিডেন্ট মেয়াদের সবচেয়ে বড় ভুল। ফেদোরভের দল ও তার দূরদর্শিতার ওপর ভরসা করেই আমি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলাম। সেনাবাহিনী বা সমাজ কোথাও এই সিদ্ধান্তের কোনও সমর্থক নেই।’
৩১ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী মারিয়া লাভরিনেটস বলেন, ‘সামরিক বাহিনীতে আমার অনেক বন্ধু আছে, তাদের অনেকেই মারা গেছেন। আমরা ফেদোরভের কাজের ফলাফল ও সেনাদের অনুপ্রেরণা দেখেছি। আমাদের তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’
এর আগে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফেদোরভ ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের শুরু থেকে ‘আইটি আর্মি অব ইউক্রেন’ গঠন, ‘আর্মি অব ড্রোন’ তহবিল পরিচালনা এবং রুশ লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলার ভিত্তিতে সেনাদের পুরস্কৃত করার মতো বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য আলোচনায় আসেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ককে অনুরোধ করে রুশ ড্রোন হামলায় স্টারলিংক স্যাটেলাইটের ব্যবহার বন্ধ করেছিলেন, যা রাশিয়ার অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রিমিয়া উপদ্বীপে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পেছনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে দাবি করা হয়।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফেদোরভ জানান, চিফ অব জেনারেল স্টাফ অ্যান্ড্রি এবং কমান্ডার-ইন-চিফ ওলেকসান্দর সিরস্কিকে পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়ার পর থেকেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। তিনি বলেন, ‘জেনারেল সিরস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কৌশলগত লড়াইয়ের চেয়ে দেশকে বিভক্ত করার পথ বেছে নিয়েছেন। আমাদের সব প্রস্তাব ব্লক করে দেওয়া হচ্ছিল।’
জেলেনস্কি তাকে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও ফেদোরভ তা গ্রহণ করেননি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রেসিডেন্ট জনগণের মনোভাব বুঝবেন এবং বর্তমান পরিস্থিতির সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।
এদিকে ফেদোরভকে অপসারণের প্রতিবাদে ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর উপ-অধিনায়ক ও ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার পাভলো ইয়েলিজারভ পদত্যাগ করেছেন। ফেদোরভের উপদেষ্টা ও ব্লগার সের্হি স্টারনেঙ্কো তাকে ‘ইতিহাসের সেরা প্রতিরক্ষামন্ত্রী’ বলে অভিহিত করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সমালোচনা করেছেন।
অন্যদিকে ‘ফ্ল্যাশ’ ছদ্মনামে পরিচিত আরেক প্রযুক্তি উপদেষ্টা জানিয়েছেন, দল থেকে বাদ পড়ায় তিনি আর শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস দিতে পারবেন না। এদিকে পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেনকোকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস প্রতিষ্ঠানের প্রধান সের্হি কোরেতস্কিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।