
বয়স নিয়ে সমালোচনার মুখে কড়া জবাব দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, নিজের বয়স নিয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই। বরং বিজেপির পতন না দেখে তিনি মরবেন না বলেও মন্তব্য করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে ৭১ বছর বয়সী মমতা বলেন, ‘আমার বয়স নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। মন, শরীর ও মানসিক শক্তিই বয়স নির্ধারণ করে। আমি কি কখনও প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন করেছি? বয়স নিয়ে কাউকে অপমান করার সাহস দেখাবেন না। বিধানসভা নির্বাচনের ফলের দিন বিজেপির লোকজন চেয়েছিল আমি হার্ট অ্যাটাকে মারা যাই। কিন্তু আমি বেঁচে থাকবো, তোমাদের পতন দেখার জন্য।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তা নাকচ করে দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, দলকে নতুন করে গড়ে তোলার সক্ষমতা এখনও তার রয়েছে।
মমতা বলেন, ‘যারা যেতে চায়, তারা চলে যাক। যা থাকবে, সেটাই আমার সোনার খনি। ২০০৪ ও ১৯৯৭ সালের মতো ২০২৬ সালেও আমি নতুন করে শুরু করতে পারি। সেই সাহস এখনও আমার আছে। আমি এক-দুই নয়, তিন প্রজন্মের নেতা তৈরি করেছি এবং যারা এখন আমার সঙ্গে আছে, তাদের জন্য আমি ছাতার মতো থাকবো।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘করবো, লড়বো, বাঁচবো’, যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে রাজনীতি ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
এদিকে দলীয় বিদ্রোহের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। রাজ্য বিধানসভা ও পার্লামেন্টে নির্বাচিত দলের অধিকাংশ বিধায়ক ও সাংসদ বিদ্রোহ করেছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ বিধায়ক বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে লোকসভার ২০ জন সাংসদ একটি ছোট রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে এনডিএকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন।