
লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিলের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ এবার নতুন মোড় নিল। ব্রাসিলিয়ার বিতর্কিত অর্থনৈতিক নীতির কারণে দেশটির নির্দিষ্ট কিছু পণ্য আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। স্থানীয় সময় বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার আমেরিকার এই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানান।
মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রায় এক বছর ধরে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পর দেখা গেছে—ডিজিটাল কমার্স, অন্যায্য অগ্রাধিকারমূলক ট্যারিফ ও ইথানল বাজারে মার্কিন পণ্যের প্রবেশাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্রাজিলের বর্তমান নীতিগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
লুলার অহংকারের চড়া মূল্য: মার্কো রুবিও
ব্রাজিল সরকারের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন:
"প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ও তাঁর সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৎ উদ্দেশ্যে কোনো আলোচনা করেনি। তাঁর অর্থনৈতিক নীতি আমেরিকানদের পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ানদের জন্যও ক্ষতিকর। গত এক বছর ধরে লুলা ব্রাজিলের জনগণের কল্যাণে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর চেয়ে নিজের অহংকারকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। সেটির চড়া মূল্য হলো এই শুল্ক।"
সেকশন ৩০১-এর অধীনে তদন্ত ও কার্যকরের তারিখ
এই নতুন কর বা শুল্ক আরোপের বিষয়ে গত মাসে প্রথম একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল। আগামী ২২ জুলাই থেকে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে। অবশ্য মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, উদ্ভূত বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসার লক্ষ্যে ব্রাজিলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যেতে ওয়াশিংটন এখনও ইতিবাচক মনোভাব রাখছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রশাসন গত বছরের জুলাই মাসে ঐতিহাসিক ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’ (Section 301) ধারার আওতায় ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এই প্রাথমিক তদন্তের সূচনা করেছিল। এই বিশেষ আইনি ধারাটি মার্কিন বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতাকে ক্ষুণ্ণকারী যেকোনো বিদেশি নীতির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
একই মাসে (গত বছরের জুলাইয়ে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ভারী শুল্ক আরোপের হুঙ্কার দিলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। সেই সময় ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন—ব্রাজিল যদি সে দেশের ডানপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া অনতিবিলম্বে বন্ধ না করে, তবে দেশটির বিরুদ্ধে কঠিন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।