
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় ২৩ জন বিদেশি নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে ইরানের উদ্ধারকারী দল। দুর্ঘটনায় একটি বাল্ক ক্যারিয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কেশম দ্বীপের উত্তরে একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সঙ্গে অপর একটি জাহাজের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাল্ক ক্যারিয়ারটিতে পানি ঢুকতে শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এ অবস্থায় জাহাজের ক্যাপ্টেন জরুরিভাবে নাবিকদের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দেন। পরে উদ্ধারকারী দল অভিযান চালিয়ে ২৩ জন বিদেশি নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করে কেশম দ্বীপে স্থানান্তর করে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ‘অভিভাবক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রণালিটি ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে ২০ শতাংশ হারে টোল আদায় করবে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “খুব শিগগিরই আমরা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেব।” পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “হরমুজ প্রণালি খোলা আছে, খোলা থাকবে। ইরান থাকুক বা না থাকুক, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রই হবে এই প্রণালির অভিভাবক।”
অন্যদিকে ট্রাম্পের এ বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ থেকে তেহরান কোনোভাবেই সরে আসবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আমরা হরমুজ প্রণালি রক্ষা করি, যাতে ভবিষ্যতে আমাদের জাহাজ চলাচলের জন্য শত্রুপক্ষকে কর দিতে না হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে পিছু হটার প্রশ্নই আসে না।”
সূত্র: আল জাজিরা, ফার্স নিউজ।