
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা এবং এ-সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনে দেশটির গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ বিভাগগুলোর জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরবর্তী সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে তথ্যপ্রবাহ ও জনমত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
লন্ডনভিত্তিক আরবি সংবাদমাধ্যম আশরক আল-আওসাত–এর হাতে পৌঁছানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জানাজা-সংক্রান্ত সংবাদ, প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণে একটি অভিন্ন সরকারি বয়ান অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি অবস্থানের বাইরে থাকা মতামত বা বিশ্লেষণকে নিরুৎসাহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানাজাকে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপনের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় গণমাধ্যমকে বিশেষভাবে তিনটি বিষয় তুলে ধরতে বলা হয়েছে—‘নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা’, ‘প্রতিরোধের ধারাবাহিকতা’ এবং ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’। একই সঙ্গে জানাজায় মানুষের অংশগ্রহণকে আলী খামেনির প্রতি জনসমর্থন এবং ইসলামী বিপ্লবের প্রতি জনগণের আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিদেশি প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি এবং পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রকাশিত ইতিবাচক বিশ্লেষণগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করতে বলা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইরানের কূটনৈতিক অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা যায়।
নির্দেশনায় উত্তরাধিকার সংকট কিংবা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনা মোকাবিলার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশের সাংবিধানিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে জনগণের মধ্যে আস্থা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে—এমন বিষয় এড়িয়ে জাতীয় ঐক্যের বার্তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানাজায় অংশ নেওয়া জনসমাগমকে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময়কার গণজমায়েতের সঙ্গে তুলনা করে রাষ্ট্রের সংহতি ও শক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে তেহরানের কয়েকজন গণমাধ্যম বিশ্লেষকের মতে, নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল সময়ে জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং গণমাধ্যমে ভিন্নমত সীমিত রাখার উদ্দেশ্যেই মূলত এ ধরনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।