
আগামী ৭ ও ৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে পশ্চিমা দেশগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নীরবতা এখন আন্তর্জাতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে। তুরস্কের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি ও বিরোধী দলের ওপর ক্রমবর্ধমান দমনপীড়নের বিষয়ে পশ্চিমা মিত্ররা কার্যত নিশ্চুপ। পর্যবেক্ষকদের মতে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চেয়ে এই মুহূর্তে তুরস্কের সাথে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে মজবুত করাই পশ্চিমা বিশ্বের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম তুরস্ক সফরে আসছেন। এই সফরের অংশ হিসেবে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সাথে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগ্লুর কারাদণ্ড কিংবা তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) ওপর সরকারের আইনি চাপের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সম্মেলনে আলোচনার টেবিলে ওঠার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোয় তুরস্কের গুরুত্ব এখন আকাশচুম্বী। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনীর অধিকারী এবং শক্তিশালী ড্রোন রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আঙ্কারাকে রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলার অন্যতম প্রধান দুর্গ হিসেবে বিবেচনা করছে পশ্চিমা জোট।
পোল্যান্ডভিত্তিক সেন্টার ফর ইস্টার্ন স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ কারোল ওয়াসিলেভস্কির মতে, পশ্চিমা মিত্ররা এখন নৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসে ‘লেনদেনভিত্তিক’ সম্পর্কের রাজনীতিতে ঝুঁকেছে। সমালোচকদের দাবি, পশ্চিমাদের এই কৌশলী নীরবতা এরদোগান প্রশাসনের স্বৈরাচারী প্রবণতাকে আরও উসকে দিচ্ছে, যা ন্যাটোর মূল ভিত্তি—গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
আঙ্কারায় নিযুক্ত আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেভিড স্যাটারফিল্ড এ বিষয়ে রয়টার্সকে বলেন:
"পশ্চিমাদের নিয়মিতভাবে তুরস্কে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের অবক্ষয় নিয়ে কথা বলা উচিত, কারণ সাধারণ তুর্কি নাগরিকদের এটি জানা দরকার যে অন্যরা তাদের শাসনব্যবস্থা নিয়ে কী ভাবছে।"
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সমাজকর্মী ওসমান কাভালার মুক্তির দাবিতে স্যাটারফিল্ডসহ ১০ জন পশ্চিমা রাষ্ট্রদূত বিবৃতি দিলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট তাঁদের বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছিলেন।
এদিকে, ২৩ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা এরদোগানের একে পার্টি বরাবরই বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ নাকচ করে আসছে। তবে সম্মেলনের আগে আঙ্কারায় নিরাপত্তা অজুহাতে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক এবং বেশ কিছু স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের ঘটনা ঘটেছে।
ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে নিশ্চিত করেছেন যে, আঙ্কারা সম্মেলনে কয়েক বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। পশ্চিমা কূটনীতিকদের বড় একটি অংশ এখন জনসমক্ষে সমালোচনা না করে একান্ত আলোচনায় তুর্কি কর্মকর্তাদের কাছে উদ্বেগ জানানোর নীতি গ্রহণ করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স