
সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী ও নিয়োগকর্তাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিয়েছে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়। ডিজিটাল শ্রমসেবা প্ল্যাটফর্ম ‘কুওয়া’ (Qiwa) জানিয়েছে, কর্মীদের কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) নবায়ন এবং কাগজপত্র বৈধ করার চলমান সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে।
পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ৩০ জুনের মধ্যে কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন কিংবা কাফালা (নিয়োগকর্তা বদল) সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু ব্যবসায়ী ও মালিকপক্ষের বিশেষ আবেদন এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনার মূল শর্তসমূহ
ইকামার মেয়াদ: কোনো কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও তার ইকামার মেয়াদ ন্যূনতম ১৮০ দিন অক্ষুণ্ণ থাকতে হবে। ইকামার মেয়াদ ১৮০ দিনের কম হলে, ইকামা ও ওয়ার্ক পারমিট উভয়ই একসাথে নবায়ন করা বাধ্যতামূলক।
ফি ও আইনি বাধ্যবাধকতা: বৈধ ওয়ার্ক পারমিটবিহীন কোনো কর্মীকে কাজে রাখা যাবে না। এছাড়া পারমিট সংক্রান্ত যাবতীয় ফি এবং বকেয়া পরিশোধের সম্পূর্ণ দায়ভার নিয়োগকর্তাকেই বহন করতে হবে।
কারা পাবেন এই বিশেষ সুবিধা?
নতুন এই সুযোগ মূলত দুটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির প্রবাসীদের জন্য প্রযোজ্য হবে:
১. যেসব প্রবাসী শ্রমিকের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ১ বছর (১২ মাস) বা তার চেয়ে বেশি সময় আগে শেষ হয়ে গেছে।
২. কোনো সংস্থায় কাজে যোগ দেওয়ার পর ৬ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত যাদের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হয়নি।
কড়াকড়ি ও মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা
সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত সময়ে নিয়মকানুনের মধ্যে আসার ক্ষেত্রে প্রবাসী ও ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক সাড়া মিলেছে, যা দেশটির শ্রমবাজারে নিয়ম প্রতিপালনের (Compliance) হার বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যবসায়ী ও কর্মীদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য এটি একটি অতিরিক্ত ও শেষ সুযোগ। এর মাধ্যমে কোনো ধরনের জরিমানা বা আইনি জটিলতা ছাড়াই বকেয়া ফি দিয়ে কর্মীর কাগজপত্র বৈধ করা যাবে।
তবে এই বর্ধিত সময়সীমাকে শিথিলতা হিসেবে না দেখার জন্য সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাগজপত্র বৈধ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।