
ভেনেজুয়েলায় ধারাবাহিক ভূমিকম্পের রেশ না কাটতেই এবার শক্তিশালী ভূকম্পনে কেঁপে উঠেছে জাপান। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা ৬.৯ মাত্রার এ ভূমিকম্পের পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বেশ কিছু বুলেট ট্রেনের চলাচল।
জাপান টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৯।
তবে শক্তিশালী এ কম্পনের পরও কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। জাপানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের পরপরই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর হয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রশাসনকে জরুরি নির্দেশনা দিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত মূল্যায়নের আহ্বান জানান।
এদিকে মুখ্য মন্ত্রিসভা সচিব মিনোরু কিহারা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই ভূমিকম্প থেকে বড় ধরনের কোনো সুনামির আশঙ্কা নেই। এই মুহূর্তে কোনো নাগরিক হতাহত হওয়ার খবর আমাদের কাছে আসেনি, তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানতে আমরা সার্বিক মূল্যায়ন অব্যাহত রাখব।’
ভূমিকম্পপ্রবণ জাপানে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে সবসময়ই উদ্বেগ থাকে। তবে মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের কোনো পারমাণবিক কেন্দ্রে অস্বাভাবিকতা বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির খবর পাওয়া যায়নি।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল কুজি শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫১.৭ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হওয়া এ কম্পনের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটির পরিবহন কর্তৃপক্ষও। ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি (জেআর ইস্ট) জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে শিন-আওমোরি থেকে রাজধানী টোকিও পর্যন্ত চলাচলকারী তাদের বুলেট ট্রেন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
রেলপথে কোনো ধরনের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পরিদর্শনের পর ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।