
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের রণাঙ্গন এবার সরাসরি রাশিয়ার খোদ রাজধানী মস্কোর বুক কাঁপিয়ে দিচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মস্কোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত তেল শোধনাগারে (রিফাইনারি) দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরের আলো ফোটার আগেই এই নজিরবিহীন বিমান হামলা চালানো হয়, যা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সুরক্ষাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা পরিচালনার কৌশল জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে তারা ক্রেমলিনের বিভিন্ন তেল শোধনাগার, জ্বালানি ডিপো, নৌঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে ক্রমবর্ধমানভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন রুশ কর্মকর্তারা।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মস্কোর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত কাপোতন্যা জেলার ‘মস্কো অয়েল রিফাইনারি’ লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন ছুড়ে দেয় কিয়েভ। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন নিজের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানান, মস্কোর আকাশসীমায় ধেয়ে আসা ৪০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে মেয়র বলেন, ‘বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এখনো ব্যাপক হামলা প্রতিহত করে যাচ্ছে। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি শপিং সেন্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের যাচাইকৃত একটি ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, ওই শোধনাগারটিতে ড্রোনের আঘাতের পর বিকট বিস্ফোরণ ঘটছে। ভিডিওতে স্থাপনাটির একটি বড় অংশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি আকাশে উঠতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই আরও একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো কাপোতন্যা এলাকা কেঁপে ওঠে। উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবারও এই একই রিফাইনারিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইউক্রেন, যার ফলে শোধনাগার প্রাঙ্গণের একটি বড় স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে সে সময় সোবিয়ানিন নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন।
ইউক্রেনের এই একের পর এক ড্রোন হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই রাশিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে এসেছে আরও একটি বড় ধাক্কা। ইউক্রেন সংকট নিরসনে চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে কড়া অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্যারিসে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন খুব শিগগিরই রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর আবারও অত্যন্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে। তবে এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের বিষয়ে একটি শর্ত জুড়ে দিয়ে তিনি জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই মস্কোর ওপর এই নতুন নিষেধাজ্ঞা চাপানো হবে।