
বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোর হাই-প্রোফাইল জি-৭ সম্মেলনের সমাপনী দিনে নিজের চিরচেনা রসবোধ আর আধিপত্যবাদী স্বভাবের জানান দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্বাগতিক ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সভাপতিত্বে জমকালো এই আসরের শেষ দিনে যোগ দিতে এসে ট্রাম্প অত্যন্ত খোলামেলাভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনিই এই বিশ্বমঞ্চের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
গত বুধবার (১৭ জুন) সম্মেলনের তৃতীয় তথা শেষ দিনের সকালে এক অনাকাঙ্ক্ষিত অথচ চিত্তাকর্ষক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সম্মেলন কক্ষের গোলটেবিলে অন্যান্য বিশ্বনেতারা যখন ইতিমধ্যে যার যার নির্ধারিত আসনে বসে পড়েছেন, ঠিক তখনই নাটকীয়ভাবে সেখানে প্রবেশ করেন ট্রাম্প। ঘরে ঢুকেই তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলে ওঠেন, ‘আমিই বস’।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে এমন অকপট মন্তব্য শোনার সাথে সাথেই পুরো সভাকক্ষে উপস্থিত সবার মাঝে হাসির রোল পড়ে যায়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও এই মন্তব্যটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও হাস্যরসের সঙ্গেই গ্রহণ করেন। তিনি হাসিমুখে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কেমন আছেন?’ জবাবে ট্রাম্প সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ‘ভালো, ধন্যবাদ।’ এরপর তিনি নিজের জন্য নির্ধারিত আসনে গিয়ে বসেন।
হোয়াইট হাউসের চাবিকাঠি হাতে নেওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী এবং বিশ্বখ্যাত রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এর তুমুল জনপ্রিয় সঞ্চালক। ওই শো-তে তার মুখে ‘ইউ আর ফায়ারড’ বা ‘বেরিয়ে যান’ সংলাপটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিল। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন করা এবং নিজের ৮০তম জন্মদিন উদযাপনের পর, ফ্রান্সের এভিয়ান শহরে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ট্রাম্পের প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
এবারের আয়োজনে ফরাসি কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা বেশ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কারণ, ট্রাম্প পুরো সম্মেলনজুড়ে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত জি-৭-এর যৌথ ঘোষণাপত্রেও নিজের স্বাক্ষর দিয়েছেন। এর আগের বার কানাডায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই সভাস্থল ত্যাগ করায় এক ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।
এদিকে সম্মেলন শেষ হওয়ার পর বুধবার বিকেলেই এক ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক সৌজন্যতার অংশ হিসেবে প্যারিসের উপকণ্ঠে অবস্থিত ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তবে এই রাজকীয় আয়োজন নিয়ে দেশের ভেতরে যেন কোনো রাজনৈতিক সমালোচনা তৈরি না হয়, সেজন্য ফরাসি প্রেসিডেন্ট আগেই গণমাধ্যমে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভার্সাইয়ের এই নৈশভোজটি মোটেও কোনো ‘জাঁকজমকপূর্ণ গালা ডিনার’ হবে না, বরং এটি একটি সাধারণ দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎ-পরবর্তী ভোজ।