
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হুলস্থুল কাণ্ড। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করার এক গুরুতর অভিযোগে খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে রাজ্য সরকারের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরাখবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে কলকাতার ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি রোডে অবস্থিত তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে আকস্মিক হানা দেয় সিআইডির একটি বিশেষ দল।
একই দিনে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়েও সমান্তরাল অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দারা। সিআইডি কর্মকর্তারা যখন মমতার বাসভবনে প্রবেশ করতে যান, তখন উপস্থিত তৃণমূল নেতা-কর্মীরা তাদের পথ আগলে দাঁড়ান। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত সব বাধা ডিঙিয়ে সিআইডি সদস্যরা বাড়ির অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন এবং তল্লাশি চালান।
নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে এমন স্পর্শকাতর অভিযান নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ও অন্যান্য বৈঠকের জন্য তারা দিল্লিতে আছেন। সেটা জানার পরও আজকের দিনে তাদের অনুপস্থিতিতে কেন সিআইডি তাদের বাসায় অভিযান চালাল সেটাই বিস্ময়কর।’
মূল ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করাকে কেন্দ্র করে। এই মর্মে স্পিকারের কাছে ৮০ জন বিধায়কের সই করা একটি চিঠি জমা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পরবর্তীতে বেশ কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেন, ওই চিঠিতে তারা কোনো স্বাক্ষরই করেননি। এই স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনা আমলে নিয়ে বিধানসভার প্রধান সচিব একটি মামলা দায়ের করেন। আর সেই মামলার সূত্র ধরেই সিআইডি এই চিরুনি তল্লাশি চালায়।
এদিকে একই দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আশ্চর্যজনকভাবে যোগ দেন জনপ্রিয় অভিনেতা তথা তৃণমূল সংসদ সদস্য (এমপি) দেবসহ বিরোধী শিবিরের কয়েকজন বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধি। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নেতার তৃণমূল ছাড়ার হিড়িকের মাঝে দেবের এই উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন গুঞ্জনের জন্ম দেয়—তবে কি দেবও মমতার হাত ছাড়ছেন?
এমন জল্পনা বাতাসে ওড়ার মাঝেই সাংবাদিকদের সামনে এসে সমস্ত গুঞ্জন উড়িয়ে দেন দেব। তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আমার ভালোবাসা সারাজীবন থাকবে। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে আছেন ততদিন তার সঙ্গেই আছি।’
আইনি ও রাজনৈতিক এই ত্রিমুখী সংকটের মধ্যেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল শিবির। দলটির অন্যতম দাপুটে নেতা ও বিধাননগর পুরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তকে সোমবার গভীর রাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করার সময় আদালত চত্বরে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা তার দিকে ডিম, টমেটো এবং গোবর ছুড়ে মেরে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেয়।