
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন জোটের তীব্র সামরিক সংঘাতের মাঝে এক বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়া পারস্য উপসাগরীয় দেশ কুয়েতের আকাশসীমা ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির সবুজ সংক্ষেপ দিয়েছে যুক্তরাস্ট্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গত শুক্রবার (৫ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই মেগা অস্ত্র চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তরের সেই বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন এই চুক্তির আওতায় কুয়েতকে অত্যন্ত আধুনিক ও শক্তিশালী ড্রোন প্রতিরোধী (কাউন্টার-ড্রোন) প্রযুক্তি ক্রয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ এই আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিটি সরবরাহ করবে আমেরিকার প্রখ্যাত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ’। উল্লেখ্য, এই কোম্পানিটি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও রাজনৈতিক অনুসারী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।
অস্ত্র বিক্রির কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ন্যাটোভুক্ত নয় এমন একটি প্রধান মিত্র দেশের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।’
ওয়াশিংটনের সামরিক থিংক ট্যাংকের মতে, বিলিয়ন ডলারের এই ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি একদিকে যেমন কুয়েতের নিজস্ব সামরিক শক্তি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে, তেমনি অন্যদিকে সামগ্রিকভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ভারসাম্য ও শান্তি বজায় রাখতে ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, এই বড় সামরিক ঘোষণার মধ্যেই আজ শনিবার (৬ জুন) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা বেশ কিছু ইরানি যুদ্ধ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করে এবং একই সাথে ইরানের মূল ভূখণ্ডের কয়েকটি রাডার স্টেশনে অতর্কিত বিমান হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর এই অভিযানের পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইরান। মার্কিন সামরিক সদর দপ্তরের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওই ঘাঁটিগুলোকে গুঁড়িয়ে দিতে তেহরানের সামরিক বাহিনী অন্তত সাতটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।