
কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বারুদের গন্ধ এতটুকুও কমেনি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতার মাঝেই এক নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনীর একের পর এক বিধ্বংসী আঘাতের পরও ইরানের কাছে তাদের মোট ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের প্রায় ‘২১ থেকে ২২ শতাংশ’ এখনো সম্পূর্ণ অক্ষত ও অবশিষ্ট রয়েছে।
আমেরিকার প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনবিসি নিউজকে (NBC News) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের এখনো নতুন করে হামলা চালানোর মতো সামরিক শক্তি রয়েছে। তেহরানের সামরিক শক্তির বর্তমান খতিয়ান তুলে ধরে তিনি জানান, ইরানের হাতে এখনো বেশ কিছু কার্যক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে এবং মার্কিন গোয়েন্দা হিসাব অনুযায়ী, দেশটির মোট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ এখনো ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন এই সামরিক মূল্যায়ন অবশ্য তাঁর আগের দেওয়া বিবৃতির চেয়ে কিছুটা বেশি। এর আগে গত মে মাসে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরানের হাতে তাদের মোট ক্ষেপণাস্ত্রের মাত্র ১৮ শতাংশ অবশিষ্ট আছে। তবে সংখ্যায় কিছুটা তারতম্য হলেও ট্রাম্প শুরু থেকেই জোরালো দাবি করে আসছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার সার্বিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে।
এদিকে এই বাগযুদ্ধের মধ্যেই গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এক বিস্ফোরক দাবি করেছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওমান উপসাগরে টহলরত মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ারকে (যুদ্ধজাহাজ) লক্ষ্য করে তারা সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে তেহরানের এই সামরিক দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে তাৎক্ষণিকভাবে উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন সামরিক সদর দফতর।
অন্যদিকে আজ শনিবার (৬ জুন) ভোরের আলো ফোটার আগেই পারস্য উপসাগরীয় দেশ কুয়েতের আকাশসীমায় বড় ধরনের সামরিক লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা শত্রুভাবাপন্ন একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আক্রমণ রুখে দিয়েছে দেশের বিমান বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক জরুরি বার্তায় কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানায়, ‘কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী বর্তমানে শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে।’
তবে এই আকস্মিক ও ভয়াবহ হামলাটি ঠিক কোন দেশ বা এলাকা থেকে চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে কুয়েত প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কুয়েতের সেনাবাহিনী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে আরও জানায়, ভোররাতে সীমান্ত এলাকায় যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তা মূলত শত্রুপক্ষের ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো মাঝআকাশেই ধ্বংস করার সময় কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সক্রিয় কার্যক্রমের শব্দ।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার মাত্র দুই দিন আগেও কুয়েত সরকার দাবি করেছিল যে, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের ছুড়ে দেওয়া অন্তত ৩০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। সেই সময় কুয়েতি প্রশাসন এই আক্রমণকে একটি ‘জঘন্য আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল।