
আমেরিকার যেকোনো ধরনের নতুন আগ্রাসন বা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এবার একধাপ এগিয়ে সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করল তেহরান। ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, দেশটির ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনী পুনরায় কোনো ধরনের হামলা চালালে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং ইরান এর কঠোরতম জবাব দেবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানি সামরিক কমান্ডারদের সাফ দাবি, ওয়াশিংটন যদি আবার কোনো হঠকারী আক্রমণ চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েন থাকা সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কাতার, বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত আমেরিকার কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সম্ভাব্য প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
অন্য দিকে, ভূ-রাজনৈতিক এই চরম উত্তেজনার মাঝেই বুধবার উত্তর ইসরায়েলের বিশাল এলাকাজুড়ে আকস্মিকভাবে বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ‘শত্রুভাবাপন্ন যুদ্ধবিমান’ বা ড্রোনের অনুপ্রবেশের আশঙ্কাজনক বার্তা পেয়েই এই রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল। তবে উদ্ভূত যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি নস্যাৎ করতে ইসরায়েলি বাহিনী সার্বিক প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও দাবি করেছে তেল আবিব।
এদিকে, লেবানন সীমান্তে সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমিয়ে আনতে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে একটি আংশিক যুদ্ধবিরতির সমঝোতা ঘোষিত হয়েছে। এই নতুন চুক্তি অনুসারে, ইসরায়েল আপাতত লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে সমস্ত ধরনের বোমাবর্ষণ বন্ধ রাখবে এবং এর বিপরীতে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কোনো পাল্টা আক্রমণ চালাবে না। তবে এই সাময়িক সমঝোতা দীর্ঘদিনের চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের স্থায়ী বা পূর্ণাঙ্গ অবসান ঘটাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে লেবাননের দূতাবাস।