
রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকা বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'রেড টেলিফোন'-এর সংযোগ কেটে দেওয়ার এক রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। কপার ক্যাবল বিচ্ছিন্ন করার এই স্পর্শকাতর ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো উদঘাটন করা সম্ভব না হলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে একাধিক গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থা।
জানা গেছে, গত ২৫ মে থেকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সরকারি ছুটি শুরু হয়। দীর্ঘ সাত দিনের ছুটি কাটিয়ে গত সোমবার যখন পুনরায় অফিস খোলে, ঠিক তখনই বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। এদিন সকালে সচিবালয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে এসে দেখতে পান যে রেড টেলিফোনটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে আছে এবং এতে কোনো সংযোগ নেই। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) প্রকৌশলীরা সংযোগটি সচল করতে সক্ষম হন। এই ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার বাদী হয়ে ওই দিনই (সোমবার) রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করেন।
দায়ের করা জিডির বিবরণী থেকে জানা যায়, সচিবালয়ের পুরাতন ১ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ বা ছাদ দিয়ে একটি বিশেষ টেলিযোগাযোগের কপার ক্যাবল টানা ছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবলটির মাধ্যমেই সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতি গোপনীয় ও জরুরি রেড টেলিফোনসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ লাইনের সংযোগ সচল রাখা হতো। কিন্তু ছুটির সুযোগে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ভবনের ছাদে উঠে ওই কপার ক্যাবলটি কেটে ফেলে, যার ফলে রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ অচল ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। এর বেশি কিছু বলার মতো তথ্য এখন নেই।’
যেহেতু বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের রমনা বিভাগের আওতাভুক্ত, তাই ডিবির পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ডিবি রমনা বিভাগের উপকমিশনার রেজাউল করিম বলেন, ঘটনাটির ছায়া তদন্ত করছি আমরা।’"