
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির প্রস্তুতি শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি কোম ও মাশহাদ শহরেও শোকযাত্রা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২ জুন) তেহরানের ডেপুটি মেয়র মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, খামেনির শেষকৃত্য ইসলামি বর্ষপঞ্জির জিলহজ মাসের শেষভাগ অথবা মহররমের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সে হিসেবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাভাকোলিজাদেহ জানান, তিন দিনব্যাপী শোকযাত্রা ও বিদায় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে তেহরানে অন্তত ২৪ ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি থাকবে। আয়োজকরা ধারণা করছেন, রাজধানীর অনুষ্ঠানে দেড় থেকে দুই কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, তেহরানের পাশাপাশি ধর্মীয় নগরী কোম এবং মাশহাদেও জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী খামেনিকে মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে। বিভিন্ন প্রদেশ থেকেও পৃথক স্মরণানুষ্ঠানের অনুরোধ পাওয়া গেছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ ও কাশ্মীরসহ ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ও প্রতিনিধিদল দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। এ কারণে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। হামলার পর ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। শুরুতে মার্চ মাসে শেষকৃত্যের আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল।
১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন খামেনি। টানা প্রায় সাড়ে ৩৬ বছর দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে থাকা এই নেতার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় আয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।