
২০২৫ সালের দুর্নীতিবিরোধী যুব আন্দোলনের পর সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রথমবার ভারত সফরে গেছেন নেপালের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান ও রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সভাপতি রবি লমিছানে। মঙ্গলবার (২ জুন) শুরু হওয়া সফরে তিনি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া এই সফরে নেপালের সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লমিছানে ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার দলীয় মুখপাত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই সফরে অংশ নেননি নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তুলনামূলক নীরব থাকা ৩৬ বছর বয়সী এই সাবেক র্যাপশিল্পী এখন পর্যন্ত বিদেশ সফর থেকেও বিরত রয়েছেন। তার সহযোগীরা বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মনোযোগ দিতে তিনি অন্তত এক বছর বিদেশ সফর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভারত সফরে গিয়ে লমিছানে নেপাল-ভারত সম্পর্ক নিয়ে একটি নিবন্ধও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ নেপাল ভারতের উত্তর সীমান্তে একটি স্বাভাবিক সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত নেপাল প্রতিবেশী অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা নিয়ে ভারতকে উদ্বিগ্ন করে তোলে।’
তিনি আরও বলেন, নেপালের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ভারতের জন্যও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
নেপালের তিন কোটি জনসংখ্যার এই হিমালয় ঘেরা রাষ্ট্রটি দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও চীনের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করে চলছে। দেশটির সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ভারত, যেখান থেকে নেপালের মোট আমদানির বড় অংশ আসে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত বিরোধ নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লিপুলেখ গিরিপথ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক আবার সামনে আসে। ২০২০ সালে ভারত ওই এলাকায় সড়ক উদ্বোধন করলে নেপালে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
নেপালের সংসদেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সীমান্ত ইস্যুতে ভারত ও নেপালের উভয় পক্ষের ‘অনুপ্রবেশের’ অভিযোগ তুলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।