
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আবারও সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই সীমিত পরিসরে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। মঙ্গলবার (১৯ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এখন নতুন করে সমঝোতায় আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে আলোচনায় ফল না এলে ওয়াশিংটন কঠোর অবস্থানে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তার ভাষায়, ‘শুক্রবার, শনিবার, রোববার কিংবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই প্রয়োজন হলে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।’
এর একদিন আগে ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিয়েও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়েছে। তার দাবি, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবারও তিনি বলেন, হামলার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বিবেচনায় আপাতত আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চলমান আলোচনাকে আরও সময় দেওয়া দরকার। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে নতুন সংঘাতের ভুক্তভোগী হতে দেওয়া উচিত নয়। তবে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে সরাসরি কোনো আশাবাদ ব্যক্ত করেননি কাতারের এই কর্মকর্তা।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তেহরানের নতুন প্রস্তাবে বড় ধরনের অগ্রগতি বা অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই।
ওই কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো একটি কার্যকর সমাধান চায়। কিন্তু কূটনৈতিক পথ ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতে গড়াতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।