
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাই-প্রোফাইল চীন সফরের ঠিক আগের দিন কৃষ্ণ সাগরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে গেছে। ওদেসা বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়া দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী, যার একটির মালিক খোদ বেইজিং।
ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার (১৮ মে) রাশিয়ার এই ড্রোন হামলায় দুটি বেসামরিক পরিবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের এবং অপরটি গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ছিল। আক্রান্ত হওয়ার সময় দুটি নৌযানই ওদেসা অঞ্চলের বন্দরের অভিমুখে যাচ্ছিল।
ইউক্রেনীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী জাহাজটির নাম ‘কেএসএল দেইয়াং’, যার প্রকৃত মালিকানা একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের। ওই জাহাজে সে সময় চীনা নাবিকরা অবস্থান করছিলেন। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজটির একটি আলোকচিত্রও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সেটির নাম এবং আগুনের শিখায় আংশিক পুড়ে যাওয়া অংশ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
গত চার বছর আগে ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকেই ওদেসা বন্দর ও এর সংলগ্ন এলাকায় বেসামরিক নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিনিয়ত হামলা চালিয়ে আসছে মস্কো। মূলত ইউক্রেনের কৃষি ও খাদ্যপণ্য বিদেশে রপ্তানির জন্য এই ওদেসা বন্দরটি অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত।
নৃশংস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি লিখেছেন, "ড্রোনগুলো ওদেসায় আঘাত হেনেছে এবং একটি মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) চীনের মালিকানাধীন জাহাজে আঘাত করেছে। সমুদ্রে কোন জাহাজটি ছিল, তার পরিচয় সম্পর্কে সে বিষয়ে রুশদের অজ্ঞ থাকার সুযোগ নেই।"
ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ওই চীনা জাহাজের সব ক্রু বা নাবিকই চীনের নাগরিক ছিলেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে তাদের কেউ হতাহত হননি। হামলার ধকল সামলে চীনা মালিকানাধীন জাহাজটি পরবর্তীতে আবার তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, হামলার সময় দেইয়াং জাহাজটি সম্পূর্ণ খালি ছিল। এটি মূলত ওদেসা অঞ্চলের পিভদেননি বন্দর থেকে লৌহ আকরিকের ঘনীভূত খনিজ বা কনসেন্ট্রেট বোঝাই করার জন্য যাচ্ছিল।
সূত্র: আল জাজিরা