
চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরিয়ে আসার চূড়ান্ত মুহূর্তে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই বৈরী প্রতিবেশী দেশ এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে বলে খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
বৈরুতের মূল লক্ষ্য স্থায়ী শান্তি
লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসেফ রাগ্গি এই আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের সাথে এই সরাসরি সংলাপে বৈরুতের প্রধান উদ্দেশ্য হলো—"ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বৈরুতের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।"
যুদ্ধবিরতির মাঝেই রক্তক্ষয়ী সংঘাত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর থাকলেও লেবাননের মাটিতে থামছে না বারুদের গন্ধ। প্রতিদিনই দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে হামলা চালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বুধবার (১৩ মে) ইসরায়েলি বাহিনী তাদের আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালে অন্তত ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মন্তুদ বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে আটটি শিশু রয়েছে। রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠসহ জনবহুল এলাকাগুলোতে এসব প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে।
দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ধ্বংসযজ্ঞ
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো দেশটির দক্ষিণ ও পূর্ব অঞ্চলের অন্তত ৪০টি স্থানে শক্তিশালী বোমাবর্ষণ করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, দক্ষিণ লেবাননের তিনটি গ্রামে চালানো হামলায় আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ছয়টি শিশু।
ওয়াশিংটনের এই শান্তি বৈঠক যখন শুরু হতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই লেবাননের আকাশে ইসরায়েলি বিমানের গর্জন ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানি চলমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এই আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে মধ্যপ্রাচ্যে কি স্থায়ী শান্তি ফিরবে, নাকি সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হবে।