
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটির সামরিক বাহিনীর নতুন ও ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী’ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অস্ত্রটি রাশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং যারা রাশিয়াকে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করছে তাদের ‘দ্বিতীয়বার ভাবতে’ বাধ্য করবে।
উৎক্ষেপণের বিস্তারিত
বুধবার (১৩ মে) রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্লেসেটস্ক কসমোড্রোম থেকে এই বিশাল ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের কামচাটকা উপদ্বীপের একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পুতিন এই সফলতার জন্য রুশ সশস্ত্র বাহিনীকে অভিনন্দন জানান।
প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, “এটি একটি অনন্য সাধারণ অস্ত্র, যা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। এটি রাশিয়াকে বাইরের হুমকি থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে সুরক্ষা দেবে এবং যারা আমাদের দেশকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক এবং উস্কানিমূলক কথা বলে, তাদের এটি দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে বাধ্য করবে।”
অস্ত্রের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব
পুতিন জোর দিয়ে বলেন যে, এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করতে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি আধুনিক যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। তার মতে, বর্তমান বিশ্বে এর সমকক্ষ কোনো অস্ত্র নেই এবং আগামী দীর্ঘ সময় ধরে এমন কিছু কেউ তৈরি করতে পারবে না।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে আঘাত হানতে সক্ষম এবং এটি একসাথে একাধিক শক্তিশালী ওয়ারহেড বহন করতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রুশ প্রেসিডেন্ট এমন এক সময়ে এই শক্তিশালী মরণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালেন যখন ইউক্রেন ইস্যু এবং ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে রাশিয়ার উত্তেজনা চরমে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে পুতিন মূলত পশ্চিমা দেশগুলোকে একটি কঠোর বার্তা দিতে চেয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমাগত অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে পুতিন তার পরমাণু সক্ষমতাকে বারবার সামনে নিয়ে আসছেন। এই সর্বশেষ পরীক্ষাটি রাশিয়ার কৌশলগত পরমাণু শক্তিকে আধুনিকায়ন করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাশিয়া এই উৎক্ষেপণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুযায়ী পূর্বেই তথ্য সরবরাহ করেছিল। তাসত্ত্বেও, পুতিনের এই ‘উস্কানিমূলক’ ভাষা নিয়ে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা।